মঙ্গলবার, ১২ই মে ২০২৬, ২৯শে বৈশাখ ১৪৩৩


ঢাবিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সমাজের প্রতিটি স্তরে আমাদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত:১২ মে ২০২৬, ১৬:২৮

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘সমাজের প্রতিটি স্তরে আমাদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আমরা নানা ধরনের ঘটনা দেখছি। এসব বিষয় থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে।’

মঙ্গলবার (১২ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধ্যাপক মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব বলেন।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গেলেন তারেক রহমান। আজ (মঙ্গলবার) সকাল পৌনে ১১টার দিকে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে পৌঁছান।

সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের আয়োজনে ‘বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা রূপান্তর: টেকসই উৎকর্ষতার রোডম্যাপ’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধন করেন তিনি।

কর্মশালায় অংশ নেওয়া শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে ঢাবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, ঢাবি সাদা দলের আহ্বায়ক ড. মোর্শেদ হাসান খান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি এবং আমাদের যে রিডিং রুমগুলো আছে, সেগুলোর সঙ্গে আমার অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিলাম, তখন এখানকার পরিবেশ, শিক্ষার্থী জীবন এবং দেশের মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠার বিষয়গুলো খুব কাছ থেকে দেখেছি।

তিনি বলেন, ‘আমি গতকালও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে একটা কথা বলেছি, আপনারা এই দেশেই বড় হয়েছেন, দেশের মানুষের বাস্তবতা দেখেছেন। মানুষের সঙ্গে কীভাবে সম্পর্ক তৈরি করতে হয়, সেটাও জানেন। আমরা অতীতে অনেক কিছু দেখেছি, অনেক কিছু জেনেছি।’

তারেক রহমান বলেন, ‘কিছুদিন আগে বাংলাদেশে আমরা এমন অনেক ঘটনা দেখেছি, যেগুলো মানুষকে হতাশ করেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ‘পিপল পাওয়ার’। জনগণের শক্তিই সবচেয়ে বড় শক্তি। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও সিভিল প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্কার হয়েছে। সেখানে ১৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। অথচ আমাদের দেশে একই ধরনের কাজে ৯৬ হাজার কোটি টাকার ব্যয় দেখানো হয়েছে। বিষয়টি চিন্তা করে দেখুন।”

তিনি বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন সময় সংবাদমাধ্যমে দেখেছি বালিশ কেনা নিয়ে নানা আলোচনা হয়েছে। কয়েকদিন আগে দেখলাম একটি বালিশের দাম ধরা হয়েছে ৮০ হাজার টাকা। অথচ আমি নিজে যেহেতু বালিশ ব্যবহার করি, আমি জানি একটি ভালো বালিশের দাম সর্বোচ্চ ২০০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে হওয়া উচিত।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিগত সরকারের সময় একটি হোয়াইট পেপার তৈরি করা হয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, প্রতি বছর প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে। যদি এই অর্থ দেশে থাকত, তাহলে দেশের উন্নয়নের চিত্র ভিন্ন হতে পারত। প্রতিবছর যদি ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়ে থাকে, তাহলে ১০ বছরে কত অর্থ বাইরে গেছে সেটা সহজেই অনুমান করা যায়।’

দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘অনেকে এখন ‘জিরো টলারেন্স’-এর কথা বলেন। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় মানুষ সেটি সহজে বিশ্বাস করতে পারে না। আমিও শুধু কথায় বিশ্বাস করি না। আমরা চেষ্টা করছি, কিন্তু দীর্ঘদিনের অভ্যাস একদিনে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। এটা সময়সাপেক্ষ একটি বিষয়।’

তিনি বলেন, ‘আজকে আসার সময়ও আমি দেখেছি, বিভিন্ন জায়গায় এখনও অনিয়ম রয়ে গেছে। সমাজের প্রতিটি স্তরে আমাদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আমরা নানা ধরনের ঘটনা দেখছি। এসব বিষয় থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে।’

সভায় উপস্থিত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তরুণ সমাজকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

এর আগে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর সর্বশেষ ঢাবি ক্যাম্পাসে এসেছিলেন তারেক রহমান। যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফেরার দুই দিন পর ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করতে তিনি ক্যাম্পাসে যান।

উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী তারেক রহমান ১৯৮৫-৮৬ শিক্ষাবর্ষে প্রথমে আইন বিভাগে ভর্তি হন। পরে বিভাগ পরিবর্তন করে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়ন করেন। তিনি স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে অবস্থান নেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা পৃথক মিছিল নিয়ে তাকে স্বাগত জানান।

এছাড়া ঢাবি ছাত্রদল, বিভিন্ন হল শাখা এবং ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরাও এতে অংশ নেন।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়