শনিবার, ১৬ই মে ২০২৬, ২রা জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


বাংলাদেশ-দক্ষিণ কোরিয়া সেমিকন্ডাক্টর শিল্প উন্নয়নে রোডশো

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত:১৬ মে ২০২৬, ১২:২৮

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

কৌশলগত আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, মেধা উন্নয়ন এবং উন্নত প্যাকেজিং উদ্যোগের মাধ্যমে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর ভ্যালু চেইনে বাংলাদেশকে যুক্ত করার লক্ষ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে প্রথমবারেরমতো দুই দিনব্যাপী ‘সেমিকন্ডাক্টর রোডশো’ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

সিউলে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআইএ) যৌথভাবে এই মেগা ইভেন্টের আয়োজন করে।

শুক্রবার (১৫ মে) রা‌তে দক্ষিণ কোরিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাস এ তথ্য জানায়।

বিএসআইএর সভাপতি এম এ জব্বারের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল এই রোডশোতে অংশ নিতে দক্ষিণ কোরিয়া সফর করেন।

১২ মে কোরিয়ার সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন হাউস ও কোরিয়া সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (কেএসআইএ) সঙ্গে একান্তে বৈঠকের মধ্য দিয়ে এ আয়োজন শুরু হয়। রোডশোর প্রধান আকর্ষণ ছিল ১২ মে সন্ধ্যায় সিউলের ডাবলট্রি বাই হিলটন পানগিও হোটেলে আয়োজিত একটি বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে দক্ষিণ কোরিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তৌফিক ইসলাম শাতিল (এনডিসি) দুই দেশের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের মধ্যে যৌথ সহযোগিতার ব্যাপক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) প্রস্তাবিত ৭৯ বিলিয়ন ডলারের ‘টেকনাফ-তেঁতুলিয়া অর্থনৈতিক করিডোর’ (২০ বছর মেয়াদি)-কে হাই-টেক শিল্পায়নের ভবিষ্যৎ হাব হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, এর ফলে প্রথাগত শহুরে কেন্দ্রের বাইরে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন, উন্নত প্যাকেজিং এবং ইলেকট্রনিক্স শিল্পের প্রসারের জন্য একটি বিশেষ ইকোসিস্টেম তৈরি হবে।

বিএসআইএ সভাপতি এম এ জব্বার তার বক্তব্যে ডিজাইন ভেরিফিকেশন, এমবেডেড সিস্টেম এবং অ্যাডভান্সড প্যাকেজিংয়ের মতো কৌশলগত পথগুলোর ওপর মনোযোগ দিয়ে সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেমে প্রবেশের ওপর জোর দেন।

রোডশোর টেকনিক্যাল সেশনে যুক্তরাষ্ট্রের পারডু ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মুহাম্মদ মুস্তফা হুসেইন ‘সিলিকন রিভার’ উদ্যোগের ওপর গুরুত্বপূর্ণ অন্তর্দৃষ্টিমূলক আলোচনা করেন। এরপর বিএসআইএর সাতটি শীর্ষস্থানীয় সদস্য প্রতিষ্ঠান— ডায়নামিক সলিউশন ইনোভেটরস, টেস্ট বাংলাদেশ লিমিটেড, উল্কাসেমি প্রাইভেট লিমিটেড, নিউরাল সেমিকন্ডাক্টর লিমিটেড, প্রাইমসিলিকন টেকনোলজি ইনকর্পোরেটেড, সিলিকনোভা লিমিটেড ও মার্স সলিউশনস লিমিটেড তাদের সক্ষমতা তুলে ধরে।

এছাড়া, এসকে হাইনিক্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট চ্যাং হিউন কিম এবং ম্যাককিনসির প্রতিনিধি ইঞ্জি ইয়োম এআই-যুগে মেমোরি প্যাকেজিং প্রযুক্তির বিবর্তন ও তাদের সাফল্যের গল্প শেয়ার করেন।

পরদিন ১৩ মে বিএসআইএ প্রতিনিধি দল দক্ষিণ কোরিয়ার কায়িস্ট, এসকে হাইনিক্স, হানা মাইক্রন, কেএসআইএ, কুলমাইক্রো, ওয়াই-টেক এবং গ্রোউইথ অ্যাসোসিয়েটসের মতো বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় সেমিকন্ডাক্টর ও গবেষণা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে।

এই রোডশোর একটি অন্যতম বড় অর্জন কায়িস্ট গ্লোবাল কমার্শিয়ালাইজেশন সেন্টার, সেন্টার অব রিসার্চ এক্সিলেন্স অন সেমিকন্ডাক্টর টেকনোলজি এবং বিএসআইএর মধ্যে একটি সম্মতিপত্র স্বাক্ষর। এর মূল লক্ষ্য হলো সেমিকন্ডাক্টর খাতে যৌথ গবেষণা, মেধা উন্নয়ন এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিতে একসঙ্গে কাজ করা।

বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, এই রোডশোর সফল সমাপ্তি বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্বের সুস্পষ্ট প্রমাণ। সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে কোরিয়ার মতো বৈশ্বিক নেতাদের প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় বাংলাদেশের উদীয়মান এই প্রযুক্তি শিল্প ব্যাপকভাবে লাভবান হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশকে একটি বৈশ্বিক হাই-টেক গন্তব্যে রূপান্তর করতে সিউলে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এ ধরনের উদ্যোগে নিরলস সহায়তা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়