একাত্তর আমাদের ভিত্তি, বাম নেতাদের বৈঠকে তারেক রহমান
প্রকাশিত:
৫ জানুয়ারী ২০২৬ ১৬:৪১
আপডেট:
৭ জানুয়ারী ২০২৬ ০৯:০০
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাম দলগুলোর জোট গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের নেতারা। সোমবার গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা ও অর্থনৈতিক অবস্থা, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন, উগ্রবাদের উত্থানসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সিপিবির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল কফি রতন, বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, স্থায়ী কমিটির সদস্য মোস্তাক হোসেন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার এবং বাসদ (মার্ক্সবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা।
এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত ছিলেন।
গত ২৯ নভেম্বর দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাসদকে নিয়ে ৯টি বাম প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট গঠন করে।
বৈঠকের পরে বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, প্রধানত বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তাঁর সন্তান হিসেবে এবং পরিবারবর্গকে সমবেদনা জানাতে আমরা গিয়েছিলাম। তিনি দীর্ঘদিন দেশের বাইরে ছিলেন। দেশে ফেরার পর মাতৃহারা হয়ে শোকাহত পরিবার ও দলকে আমরা সহমর্মিতা ও সমবেদনা জানাতে গিয়েছি। এর বাইরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, আসন্ন নির্বাচন ইত্যাদি বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এখানে মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান সম্পর্কেও আলোচনা হয়েছে।
একাত্তর আমাদের ভিত্তি
বজলুর রশীদ বলেন, বৈঠকে তারেক রহমান একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকে বাংলাদেশের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধকে বাদ দিলে বাংলাদেশের অস্তিত্ব থাকে না।
বজলুর রশীদের ভাষায়, “তারেক রহমান বলেন, ৯০–এর গণঅভ্যুত্থান এবং ২৪–এর গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে আমাদের এগোতে হবে। তিনি বলেছেন, এখানে বিশ্বাসী, অবিশ্বাসী ও সংশয়বাদী—সবাইকে নিয়েই আমাদের চলতে হবে। আমরা একটি উদার গণতান্ত্রিক কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের পরিকল্পনা করছি। আমরা সেইভাবেই কাজ করতে চাই, অতীত থেকে শিক্ষা নিতে চাই এবং জনগণই আমাদের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। মানুষের যাতে সুবিধা হয়, সুযোগ-সুবিধা উপভোগ করতে পারে, সেটি শুধু পরিকল্পনায় নয়, বাস্তবায়নেও আমরা যেতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের বিরোধীদল থাকবে, অপোজিশন থাকবে। আপনাদের সঙ্গে অনেক বিষয়ে মতপার্থক্য আছে, থাকবে; কিন্তু আবার বিভিন্ন জাতীয় প্রশ্নে ও জনগণের স্বার্থে আমরা নিশ্চয়ই মতবিনিময় করব। মাঝে মাঝে আপনাদের পরামর্শ থাকলে আমাদের দেবেন, যা গ্রহণযোগ্য হবে তা আমরা গ্রহণ করব। একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে উঠুক—এমন প্রত্যাশা তিনি ব্যক্ত করেছেন। আমরা বলেছি, রাজনৈতিক সহনশীলতা, পরমত সহিষ্ণুতা ও ভাবগত সহনশীলতা গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত। সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সামনে রেখে এই রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা দরকার।”
বজলুর রশীদ বলেন, আমরা বলেছি, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি যেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করতে না পারে। আমরা বলেছি, জামায়াতে ইসলামী এসে বলেছে জাতীয় সরকার থাকবে। জবাবে তারেত রহমান বলেছেন, এ বিষয়ে আমাদের সঙ্গে কোনো কথা হয়নি। তারা বাইরে এ কথা বলছে। আমাদের সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। শুধু দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ থাকার কথা হয়েছে। আমরা বলেছি, মতপার্থক্য থাকলেও জনগণের স্বার্থ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ঐক্য থাকা দরকার। সমালোচনা থাকবে, মতভিন্নতা থাকবে।
সমালোচনা অবশ্যই থাকবে
বজলুর রশীদ বলেন, আমরা গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট থেকে বলেছি, আজ আমরা শোকের এই পরিবেশে কথা বলছি; কিন্তু সরকারে গেলে হয়তো আমরাই আপনাদের বেশি সমালোচনা করব। জবাবে তারেক রহমান বলেছেন, অবশ্যই সমালোচনা থাকবে, সমালোচনা না হলে গণতন্ত্র কেমন করে হবে? সমালোচনা থাকবে, আবার আলোচনাও হবে। ভবিষ্যতে আরও দেখা হবে, কথা হবে, আলোচনা হবে—এটি যেন সবার সঙ্গেই অব্যাহত থাকে, মতবিনিময় যেন চলমান থাকে—এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
এর আগে প্রয়াত খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধা জানিয়ে শোকবইয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতারা স্বাক্ষর করেন।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: