বুধবার, ৬ই মে ২০২৬, ২৩শে বৈশাখ ১৪৩৩


বৃক্ক সুস্থ রাখার ৭টি উপায়

ফাহিমা হোসেন মুনা

প্রকাশিত:৬ মে ২০২৬, ১৮:৫৩

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

কিডনি রোগ একটি ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সমস্যা, যা প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মানুষকে প্রভাবিত করছে। কিডনি শরীরের বর্জ্য পদার্থ ছেঁকে ফেলা, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা এবং শরীরের সামগ্রিক ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবুও, ক্রনিক কিডনি ডিজিজ (CKD) প্রায়ই নীরবে অগ্রসর হয়, যার লক্ষণ সাধারণত রোগের উন্নত পর্যায়ে গিয়ে প্রকাশ পায়। ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশন কিডনি রোগ প্রতিরোধের জন্য সাতটি গুরুত্বপূর্ণ

নিয়ম তুলে ধরেছে, যা কিডনির সুস্থতা ও সামগ্রিক স্বাস্থ্য রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

১. রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করুন
ডায়াবেটিস কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। উচ্চ রক্তে শর্করা দীর্ঘমেয়াদে কিডনির সূক্ষ্ম ছাঁকন প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণের মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করলে কিডনি জটিলতার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়।

২. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন
উচ্চ রক্তচাপ (হাইপারটেনশন) কিডনি রোগের আরেকটি বড় ঝুঁকির কারণ। এটি কিডনির রক্তনালীগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং ধীরে ধীরে কিডনির কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। জীবনযাত্রায় পরিবর্তন ও প্রয়োজনে ওষুধের মাধ্যমে রক্তচাপকে স্বাভাবিক মাত্রায় (১২০/৮০ mmHg-এর নিচে) রাখলে কিডনি সুরক্ষিত থাকে।

৩. পর্যাপ্ত পানি পান করুন
পর্যাপ্ত পানি পান কিডনির সঠিক কার্যকারিতার জন্য অত্যন্ত জরুরি। এটি শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে এবং কিডনি পাথর প্রতিরোধে সহায়ক। তবে অতিরিক্ত পানি পান করাও ক্ষতিকর হতে পারে, বিশেষ করে যাদের কিডনির সমস্যা রয়েছে। তাই ব্যক্তির প্রয়োজন অনুযায়ী সুষম পানি গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ।

৪. স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন
কিডনির জন্য উপকারী খাদ্য তালিকায় রয়েছে ফলমূল, শাকসবজি, পূর্ণ শস্য এবং লিন প্রোটিন। প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত লবণ ও চিনি কম খাওয়া উচিত। সোডিয়াম কম গ্রহণ করলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং সুষম প্রোটিন গ্রহণ কিডনির উপর চাপ কমায়।

৫. নিয়মিত ব্যায়াম করুন
শারীরিক ব্যায়াম শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং রক্তসঞ্চালন উন্নত করে, যা কিডনি রোগের ঝুঁকি কমায়। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম যেমন হাঁটা, সাইকেল চালানো বা সাঁতার কাটা উপকারী।

৬. ধূমপান ও অতিরিক্ত মদ্যপান এড়িয়ে চলুন
ধূমপান কিডনির রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং কিডনি রোগের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করে। অতিরিক্ত অ্যালকোহল রক্তচাপ বাড়ায় এবং শরীরে পানিশূন্যতা সৃষ্টি করে। এসব অভ্যাস পরিহার করলে কিডনি ও হৃদ্‌স্বাস্থ্য উভয়ই ভালো থাকে।

৭. নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন
অনেক কিডনি রোগ নীরবে বিকশিত হয়, তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা পারিবারিকভাবে কিডনি রোগের ইতিহাস আছে, তাদের নিয়মিত রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা করা উচিত। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা গেলে গুরুতর জটিলতা প্রতিরোধ করা সম্ভব।
কিডনি রোগ সহজ কিছু জীবনধারাগত পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব। এই সাতটি নিয়ম মেনে চললে কিডনির কার্যক্ষমতা রক্ষা করা যায়, জীবনমান উন্নত হয় এবং স্বাস্থ্যখাতে চাপ কমে। জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত স্ক্রিনিং কর্মসূচি কিডনি রোগের ক্রমবর্ধমান বোঝা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আজ থেকেই কিডনির যত্ন নিলে আমরা নিজেদের এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ জীবন নিশ্চিত করতে পারি।


কিডনি রোগ একটি ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সমস্যা, যা প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মানুষকে প্রভাবিত করছে। কিডনি শরীরের বর্জ্য পদার্থ ছেঁকে ফেলা, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা এবং শরীরের সামগ্রিক ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবুও, ক্রনিক কিডনি ডিজিজ (CKD) প্রায়ই নীরবে অগ্রসর হয়, যার লক্ষণ সাধারণত রোগের উন্নত পর্যায়ে গিয়ে প্রকাশ পায়। ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশন কিডনি রোগ প্রতিরোধের জন্য সাতটি গুরুত্বপূর্ণ
নিয়ম তুলে ধরেছে, যা কিডনির সুস্থতা ও সামগ্রিক স্বাস্থ্য রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

১. রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করুন
ডায়াবেটিস কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। উচ্চ রক্তে শর্করা দীর্ঘমেয়াদে কিডনির সূক্ষ্ম ছাঁকন প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণের মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করলে কিডনি জটিলতার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়।

২. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন
উচ্চ রক্তচাপ (হাইপারটেনশন) কিডনি রোগের আরেকটি বড় ঝুঁকির কারণ। এটি কিডনির রক্তনালীগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং ধীরে ধীরে কিডনির কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। জীবনযাত্রায় পরিবর্তন ও প্রয়োজনে ওষুধের মাধ্যমে রক্তচাপকে স্বাভাবিক মাত্রায় (১২০/৮০ mmHg-এর নিচে) রাখলে কিডনি সুরক্ষিত থাকে।

৩. পর্যাপ্ত পানি পান করুন
পর্যাপ্ত পানি পান কিডনির সঠিক কার্যকারিতার জন্য অত্যন্ত জরুরি। এটি শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে এবং কিডনি পাথর প্রতিরোধে সহায়ক। তবে অতিরিক্ত পানি পান করাও ক্ষতিকর হতে পারে, বিশেষ করে যাদের কিডনির সমস্যা রয়েছে। তাই ব্যক্তির প্রয়োজন অনুযায়ী সুষম পানি গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ।

৪. স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন
কিডনির জন্য উপকারী খাদ্য তালিকায় রয়েছে ফলমূল, শাকসবজি, পূর্ণ শস্য এবং লিন প্রোটিন। প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত লবণ ও চিনি কম খাওয়া উচিত। সোডিয়াম কম গ্রহণ করলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং সুষম প্রোটিন গ্রহণ কিডনির উপর চাপ কমায়।

৫. নিয়মিত ব্যায়াম করুন
শারীরিক ব্যায়াম শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং রক্তসঞ্চালন উন্নত করে, যা কিডনি রোগের ঝুঁকি কমায়। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম যেমন হাঁটা, সাইকেল চালানো বা সাঁতার কাটা উপকারী।

৬. ধূমপান ও অতিরিক্ত মদ্যপান এড়িয়ে চলুন
ধূমপান কিডনির রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং কিডনি রোগের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করে। অতিরিক্ত অ্যালকোহল রক্তচাপ বাড়ায় এবং শরীরে পানিশূন্যতা সৃষ্টি করে। এসব অভ্যাস পরিহার করলে কিডনি ও হৃদ্‌স্বাস্থ্য উভয়ই ভালো থাকে।

৭. নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন
অনেক কিডনি রোগ নীরবে বিকশিত হয়, তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা পারিবারিকভাবে কিডনি রোগের ইতিহাস আছে, তাদের নিয়মিত রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা করা উচিত। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা গেলে গুরুতর জটিলতা প্রতিরোধ করা সম্ভব।
কিডনি রোগ সহজ কিছু জীবনধারাগত পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব। এই সাতটি নিয়ম মেনে চললে কিডনির কার্যক্ষমতা রক্ষা করা যায়, জীবনমান উন্নত হয় এবং স্বাস্থ্যখাতে চাপ কমে। জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত স্ক্রিনিং কর্মসূচি কিডনি রোগের ক্রমবর্ধমান বোঝা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আজ থেকেই কিডনির যত্ন নিলে আমরা নিজেদের এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ জীবন নিশ্চিত করতে পারি।


লেখক- ফাহিমা হোসেন মুনা। রিসার্চ টিম হেড,বাংলাদেশ ইকোনমিক সোসাইটি নিউট্রিশন ইন্টার্ন, ইবনে সিনা হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্য ও পুষ্টিবিষয়ক কনটেন্ট বিশেষজ্ঞ; প্রতিষ্ঠাতা, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাথওয়েজ

সম্পর্কিত বিষয়:

আপনার মতামত দিন:

(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)
আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়