রবিবার, ১০ই মে ২০২৬, ২৭শে বৈশাখ ১৪৩৩


বদনজর থেকে সুরক্ষায় নবীজির দোয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত:১০ মে ২০২৬, ১৩:৪৯

ছবি ‍: সংগৃহীত

ছবি ‍: সংগৃহীত

বদনজর বা কুদৃষ্টি (العين) ইসলামে স্বীকৃত একটি বাস্তব বিষয়। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘বদনজর সত্য। যদি কোনো কিছু তাকদিরকে অতিক্রম করতে পারত, তবে বদনজরই তা করত।’ (আবু দাউদ: ৩৮৭৯; তিরমিজি: ২০৫৯)

মানুষের ঈর্ষা বা অতিরিক্ত বিস্ময়ের দৃষ্টির কারণে আল্লাহর ইচ্ছায় কারো ক্ষতি হতে পারে- এ বিষয়ে ইসলাম কোরআন ও সুন্নাহভিত্তিক সুস্পষ্ট আমলের নির্দেশনা দিয়েছে।

বদনজর থেকে বাঁচার দোয়া
রাসুলুল্লাহ (স.) তাঁর দৌহিত্র হাসান ও হুসাইন (রা.)-এর সুরক্ষার জন্য এই দোয়াটি পড়তেন-
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ
উচ্চারণ: আউজু বিকালিমাতিল্লাহিত-তাম্মাতি মিন কুল্লি শাইতানিও ওয়া হাম্মাহ, ওয়া মিন কুল্লি আইনিন লাম্মাহ।
অর্থ: আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালামসমূহের মাধ্যমে আশ্রয় চাই প্রতিটি শয়তান, বিষধর প্রাণী এবং প্রতিটি কুনজরের অনিষ্ট থেকে। (সহিহ বুখারি: ৩৩৭১)

সকাল-সন্ধ্যায় নিয়মিত এই দোয়া পড়া এবং মাসনুন জিকির করা সব অনিষ্ট থেকে সুরক্ষার মাধ্যম। রাসুলুল্লাহ (স.) কুদৃষ্টিসহ যাবতীয় অনিষ্ট থেকে আশ্রয়ের জন্য সুরা ইখলাস, ফালাক ও নাসকেও বিশেষভাবে গুরুত্ব দিতেন। (আবু দাউদ: ৫০৮২; তিরমিজি: ৩৫৭৫)

শিশুদের ওপর এই দোয়া পড়ে ফুঁ দেওয়া সুন্নাহসম্মত আমল। এ ছাড়া নিজের বা অন্যের কোনো নিয়ামত দেখলে ‘মাশাআল্লাহ’ বা ‘বারাকাল্লাহু ফিক’ বলা উচিত, যাতে কুনজরের ক্ষতি না হয় এবং বরকত অক্ষুণ্ণ থাকে।

কুনজর থেকে বাঁচতে তাবিজ-কবজ বা কুসংস্কারের আশ্রয় ইসলামে গ্রহণযোগ্য নয়। কোরআন-সুন্নাহর শেখানো দোয়া, নিয়মিত জিকির এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ তাওয়াক্কুলই একজন মুমিনের প্রকৃত সুরক্ষা।

 

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়