মঙ্গলবার, ৩০শে জুন ২০২৬, ১৬ই আষাঢ় ১৪৩৩
ছবি সংগৃহীত
২০০৬ সালে জিম্বাবুয়ে সফরে পাঁচ ওয়ানডের সিরিজে খেলার জন্য বাংলাদেশ দলে অন্তর্ভুক্ত হন মুশফিকুর রহিম। অলরাউন্ডার ফরহাদ রেজা এবং সাকিব আল হাসানের পাশাপাশি স্কোয়াডের তিন আনক্যাপড ওয়ানডে খেলোয়াড়ের একজন ছিলেন। ১৯ বছরের সেই যাত্রাটা থেমে গেছে বুধবার রাতে। ওয়ানডেকে বিদায় বলে দিয়েছেন মুশি। বাংলাদেশের রঙিন পোশাকে তার অধ্যায় এখন স্মৃতিময় অতীত। ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে তার অবসরের ঘোষণার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এই অভিজ্ঞ উইকেটরক্ষক-ব্যাটারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।
এক বিবৃতিতে বিসিবি মুশফিকের অসামান্য নিবেদন, পেশাদারিত্ব ও দৃঢ় মানসিকতার প্রশংসা করে বিসিবি জানায়, ‘বাংলাদেশের ওয়ানডে ক্রিকেটের উন্নতিতে তার ভূমিকা অনস্বীকার্য। ব্যাট হাতে কিংবা উইকেটের পেছনে—সব জায়গাতেই তিনি ছিলেন নির্ভরতার প্রতীক।’
বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ মুশফিকের অবদান স্মরণ করে বলেন, ‘মুশফিকুর রহিমের অধ্যবসায়, প্রতিশ্রুতি ও লড়াকু মানসিকতা তরুণদের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। বাংলাদেশের ওয়ানডে ক্রিকেটের গৌরবময় মুহূর্তগুলোর কথা বললে তাঁর নাম বারবার উঠে আসবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘১৯ বছর ধরে আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ক্রিকেট খেলা এক অসাধারণ কীর্তি। এটি তার ধারাবাহিকতা ও মানসিক শক্তিরই প্রমাণ। আমি নিশ্চিত, ক্রিকেটের জন্য মুশফিকের এখনও অনেক কিছু দেওয়ার আছে, এবং আমরা আশা করি তিনি মাঠে ও মাঠের বাইরে আরও অনেক অবদান রাখবেন।’
ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম সফল ক্রিকেটার মুশফিক। দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ২৭৪টি ওয়ানডে খেলে তিনি ৭,৭৯৫ রান করেছেন, যা তাকে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক বানিয়েছে। উইকেটকিপার হিসেবে ২৪৩টি ক্যাচ ও ৫৬টি স্টাম্পিংসহ তিনিই দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল কিপার। এছাড়া বাংলাদেশের হয়ে ৩৭টি ওয়ানডেতে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি এবং পাঁচটি ওয়ানডে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া গুটিকয়েক ক্রিকেটারের মধ্যে তিনি অন্যতম।
একটা অধ্যায় শেষ হলেও মুশফিকের ক্রিকেটযাত্রা এখানেই থেমে নেই। এখনও টেস্ট ক্রিকেটে তাকে দেখা যাবে বাংলাদেশের জার্সিতে। তবে ওয়ানডে ক্রিকেটে মুশফিকুর রহিমের নাম চিরকাল বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।