রবিবার, ৭ই জুন ২০২৬, ২৪শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের আসামি সোহেল রানা(৩৩) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৮) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ রায় ঘোষণার পর সোহেল রানার নিজ গ্রামের বাড়ি সিংড়া মহেশচন্দ্রপুরে মানুষ স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তবে আসামি সোহেল রানার বাবা রাষ্ট্রের কাছে ছেলের জন্য প্রাণ ভিক্ষা চেয়েছেন। তবে নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের রায় মেনে নিয়েছে স্বপ্নার পরিবার।
রোববার (৭ জুন) দুপুরে রামিসা হত্যা মামলার রায় ঘোষণার পর হত্যাকারী সোহেলের নিজ এলাকা নাটোরের সিংড়া উপজেলার মহেশচন্দ্রপুর গ্রামে এলাকাবাসী সন্তুষ্ট প্রকাশ করেন।
এর আগে গতকাল শনিবার কারাগার থেকে ফোনে মা-বাবা ও সন্তানের কাছে ক্ষমা চান আসামি সোহেল রানা।
সোহেলের বোন জলি বেগম জানালেন, আমার ভাইয়ের ফাঁসি হবে এটা আমরা ধারণা করেছিলাম। ফাঁসির রায় আমরা মেনে নিয়েছি। আমাদের সামর্থ্য থাকলে আপিল করতাম।
সোহেলের বাবা জাকির হোসেন জানালেন, আমার ছেলে অপরাধ করেছে সেজন্য রাষ্ট্রের কাছে জান ভিক্ষা চাই। আমরা এতোটাই গরিব যে আপিল করার মতো টাকা আমার নেই। সরকার আইনজীবী দিলে আমরা আপিল করব।
সোহেলের মা শাহানাজ বেগম জানালেন, আমি মা, আমার কলিজা ফেটে যাচ্ছে ছেলের মৃত্যুদণ্ডের রায় শুনে। আমি চাই, আপিলের পর আল্লাহ হায়াত দিলে আমার ছেলে বাড়িতে ফিরে আসুক। আমি মা আমার বুক ছিঁড়ে যাচ্ছে।
স্বপ্নার বাবা জিয়াদুল জানালেন, এ ঘটনা মেনে নেওয়ার মতো না। আমি মেয়েকে আগেই ত্যাজ্য করেছিলাম। মেয়ের এই রায়ে আমি খুশি। বিচার বাস্তবায়ন হোক। পরিবার থেকে কোনো আপিল করব না।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাবা জাকির আলীর তিন সন্তানদের মধ্যে বড় সোহেল রানা। এলাকায় তিনি রিকশা মেকানিক হিসেবে কাজ করতেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজের পাশাপাশি তিনি জুয়া, মাদক ও বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। তার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগও ছিল বলে দাবি করেন এলাকাবাসী। গ্রামের এক তরুণীকে বিয়ে করার পর তার সংসারে এক ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। পরে ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনার জেরে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এলাকাবাসীর ভাষ্য, জুয়া খেলতে গিয়ে প্রায় ৮-১০ লাখ টাকা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন সোহেল। পরে বাবা তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এরপর সিংড়ার বালুয়া বাসুয়া এলাকায় আরেক নারীকে বিয়ে করেন তিনি। কিছুদিন পর ঢাকায় গিয়ে নিজের পরিচয় গোপন করতে বাবার নাম ব্যবহার করে বসবাস শুরু করেন বলে জানা গেছে।