বৃহস্পতিবার, ২১শে মে ২০২৬, ৭ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


জবাইয়ে কড়াকড়ি, পশ্চিমবঙ্গে চিড়িয়াখানার বাঘও পাচ্ছে না গরু-মহিষের মাংস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত:২১ মে ২০২৬, ২১:০৫

ছবি ‍: সংগৃহীত

ছবি ‍: সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে গরু ও মহিষ জবাইয়ে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। যার প্রভাব পড়েছে সেখানকার চিড়িয়াখানা ও সাফারি পার্কের বাঘসহ অন্যান্য মাংশাসী প্রাণীর ওপর।

সংবাদমাধ্যম ইটিভি বৃহস্পতিবার (২১ মে) জানিয়েছে, জবাইয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করায় গরু-মহিষের মাংসের দাম দেড়শ থেকে দুইশ রুপি বেড়েছে। সঙ্গে কমে গেছে সরবরাহ। এতে করে চিড়িয়াখানার প্রাণীদের জন্য মাংস মিলছে না।

এখন তাদের মুরগি, শূকর ও ছাগলের মাংস দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। যা চিড়িয়াখানার খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে সেখানকার সাফারি পার্কে। পার্ক সূত্র জানিয়েছে, তাদের এখানে ১১টি রয়্যাল বেঙ্গল বাঘ, তিনটি চিতাবাঘ, কুমির, ঘড়িয়ালসহ ২৫টির বেশি মাংশাসী প্রাণী আছে। এগুলোর জন্য দিনে ৩০০ থেকে ৫০০ কেজি গরু ও মহিষের মাংস প্রয়োজন। সেখানে একটি প্রাপ্তবয়স্ক বাঘকে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ কেজি মাংস খেতে দেওয়া হয়।

এতদিন নকশালবাড়ি নামে একটি জায়গা থেকে এসব মাংস সরবরাহ করা হতো। কিন্তু কড়াকড়ির কারণে এখন সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

বাঘ-সিংহের মতো প্রাণীর দরকার গরু বা মহিষের মাংসের

পশ্চিমবঙ্গের চিড়িয়াখানা ও সাফারি পার্কের প্রাণীদের মুরগি ও ছাগলের মাংস খাওয়ানোর পরিকল্পনা করা হলেও; বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব প্রাণীর শক্তির জন্য গরু ও মহিষের মাংস অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

‘সলিটরি নেচার অ্যান্ড অ্যানিম্যাল প্রোটেকশন’ এর সম্পাদক কৌস্তভ চৌধুরী ইটিভিকে বলেছে, ‘‘বাঘ বা চিতাবাঘের মতো প্রাণীদের শারীরিক শক্তি ও স্বাভাবিক প্রবৃত্তির জন্য গরু বা মহিষের মাংস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । তারা তো জঙ্গলে নেই যে নিজেরা শিকার করবে । তাই সরকারকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।”

পশ্চিমবঙ্গের আলিপুর চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের এখানে থাকা একেকটি বাঘ ও আমেরিকান চিতার দিনে ১০ থেকে ১২ কেজি লাল মাংস প্রয়োজন। শীতকালে এ চাহিদা আরও বাড়ে। ওই সময় প্রতিদিন ১৭৫ কেজি মাংস লাগে। আর গরমে ১৪৫ কেজি মাংস লাগে।

এই চিড়িয়াখানার প্রধান কর্মকর্তা তৃপ্তি শাহ বলেছেন, এসব প্রাণীর জন্য মুরগির মাংস দিয়ে সারাবছর চালানো যাবে না। যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে সেটি সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে হিন্দুত্ববাদী বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যটিতে গরু ও মহিষ জবাইয়ে বিধিনিষেধ আরোপ কড়াকড়ি করেছে। এখন থেকে সেখানে নির্দিষ্ট কসাইখানা ও অনুমতি ছাড়া গরু ও মহিষ জবাই করা যাবে না। এছাড়া গরুর বয়স নূনতম ১৪ বছর হতে হবে। সঙ্গে গরুটি কর্ম ও প্রজনন ক্ষমতাবিহীনও হওয়া লাগবে।

সূত্র: ইটিভি

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়