বৃহস্পতিবার, ২১শে মে ২০২৬, ৭ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


স্বাস্থ্য বাজেট : অধিক বরাদ্দ ও কার্যকর বাস্তবায়ন চাই

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত:২১ মে ২০২৬, ১৮:৪৫

ছবি ‍: সংগৃহীত

ছবি ‍: সংগৃহীত

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত নিয়ে জনআকাঙ্ক্ষা বহু পুরোনো। মানুষ এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা চায়, যেখানে অর্থাভাবে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হতে হবে না; গ্রামের মানুষও শহরের মতো মানসম্মত সেবা পাবে; প্রতিরোধমূলক ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী হবে; এবং চিকিৎসা ব্যয়ের বোঝা পরিবারকে দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দেবে না।

বাস্তবতা হলো, স্বাস্থ্য বাজেট নিয়ে প্রতি বছর আলোচনা হলেও বরাদ্দের কার্যকর ব্যবহার, কাঠামোগত সংস্কার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রশ্নটি তুলনামূলকভাবে আড়ালেই থেকে যায়।

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের স্বাস্থ্য বাজেট নিয়ে আলোচনা করতে গেলে তাই শুধু ‘কত বরাদ্দ হলো’ তা নয়, বরং ‘বরাদ্দ কতটা কার্যকরভাবে ব্যবহার হবে’—এই প্রশ্নটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘদিনের সংকট কেবল কম বরাদ্দের কারণে নয়; বরং বিদ্যমান সম্পদের অদক্ষ ব্যবহার, দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও কাঠামোগত বিচ্ছিন্নতার কারণেও।

বাংলাদেশে সরকারি স্বাস্থ্য ব্যয় জিডিপির তুলনায় অত্যন্ত কম। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই নিম্নতম অবস্থানে রয়েছে। যেখানে থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, শ্রীলঙ্কা বা ভুটান স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সরকারি ব্যয় করে, সেখানে বাংলাদেশে এ হার বহু বছর ধরেই ১ শতাংশেরও নিচে। এটি শুধু স্বাস্থ্য খাতের প্রতি সীমিত অগ্রাধিকারের প্রতিফলন নয়; বরং সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা অর্জনের পথে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা।

তবে শুধু বরাদ্দ কম বললে পুরো চিত্রটি বোঝা যায় না। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো যে বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়, তারও একটি বড় অংশ ব্যয় করা সম্ভব হয় না। কয়েক অর্থবছরের প্রস্তাবিত, সংশোধিত ও প্রকৃত ব্যয়ের তুলনামূলক চিত্র দেখলে বোঝা যায়, স্বাস্থ্য খাত ধারাবাহিকভাবে বরাদ্দকৃত অর্থের একটি বড় অংশ ব্যবহার করতে ব্যর্থ হয়েছে।

উদাহরণস্বরূপ, ২০২২-২৩ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে প্রস্তাবিত বরাদ্দ ছিল প্রায় ৩৬ হাজার ৮৬৩ কোটি টাকা, কিন্তু প্রকৃত ব্যয় নেমে আসে প্রায় ২২ হাজার ৫২১ কোটিতে যা বরাদ্দের ৬১ শতাংশ। অর্থাৎ, ৩৯ শতাংশ ব্যয় হয়নি। পরবর্তী বছর গুলোতে এ সংকট আরও প্রকট হয়েছে, বিশেষ করে উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে।

অর্থাৎ হাসপাতাল উন্নয়ন, যন্ত্রপাতি সংগ্রহ, অবকাঠামো নির্মাণ বা স্বাস্থ্যব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে বরাদ্দ দেওয়া হলেও সেগুলো সময়মতো বাস্তবায়িত হচ্ছে না। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, যে অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে তার কার্যকারিতা ও জনস্বাস্থ্যগত ফলাফল নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে।

প্রথমত, স্বাস্থ্য খাতে বিপুল অপচয় বিদ্যমান। গ্রামীণ এলাকায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র, সাব-সেন্টার ও কমিউনিটি ক্লিনিকের মধ্যে সেবার ডুপ্লিকেশন বা পুনরাবৃত্তি রয়েছে। জেলা পর্যায়েও মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেলা হাসপাতাল ও মাতৃসদনগুলোর মধ্যে সেবার পুনরাবৃত্তি দেখা যায়। ফলে সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হয় না।

দ্বিতীয়ত, দুর্নীতি একটি বড় সমস্যা। এটি শুধু আর্থিক দুর্নীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; অনুপস্থিতি, দায়িত্বহীনতা বা ভুয়া রোগীর মতো অ-আর্থিক দুর্নীতিও ব্যাপক। ওষুধ ক্রয়, যন্ত্রপাতি সংগ্রহ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিয়মের কারণে অনেক ক্ষেত্রে বরাদ্দকৃত অর্থ সঠিকভাবে কাজে লাগে না।

তৃতীয়ত, স্বাস্থ্য খাতে ‘ইনপুট-মিক্স’ ও ‘স্কিল-মিক্স’-এর ঘাটতি প্রকট। অনেক হাসপাতালে ভবন আছে কিন্তু চিকিৎসক নেই; কোথাও চিকিৎসক আছেন কিন্তু নার্স নেই; আবার কোথাও যন্ত্রপাতি থাকলেও দক্ষ টেকনিশিয়ান নেই। অর্থাৎ, সম্পদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে ওঠেনি।

চতুর্থত, ওষুধ সরবরাহ, সংরক্ষণ ও বিতরণ ব্যবস্থায় বড় ধরনের দুর্বলতা রয়েছে। অনেক হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ওষুধ সময়মতো পৌঁছায় না, আবার কোথাও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পড়ে থাকে। এসব কারণে জনগণকে বাধ্য হয়ে ব্যক্তিগত খাতের ওপর নির্ভর করতে হয় এবং পকেট থেকে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়।

এই বাস্তবতায় শুধু ‘বাজেট বাড়াও’ দাবি যথেষ্ট নয়। বরং অতিরিক্ত বরাদ্দ দাবি করার আগে কয়েকটি পূর্বশর্ত পূরণ জরুরি।

প্রথমত, বিদ্যমান সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, বরাদ্দকৃত বাজেট অর্থবছরের মধ্যেই সম্পূর্ণ ব্যবহার করার সক্ষমতা দেখাতে হবে।

তৃতীয়ত, প্রতিটি টাকার বিপরীতে পরিমাপযোগ্য স্বাস্থ্যফল নিশ্চিত করতে হবে।

চতুর্থত, বিদ্যমান লাইন আইটেমের ঘাটতি পূরণ করতে হবে যেমন শূন্যপদ পূরণ, আপগ্রেটেড বা উন্নীত স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জন্য অনুমোদিত পদ সৃষ্টি এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ ও রিএজেন্ট সরবরাহ নিশ্চিত করা। পাশাপাশি, প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন লাইন আইটেম বা উপ-লাইন আইটেম সংযোজন করতে হবে।

এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য কিছু তাৎক্ষণিক ও কিছু কৌশলগত পদক্ষেপ প্রয়োজন। তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে প্রতিটি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ব্লক বা এককালীন বরাদ্দ দেওয়া যেতে পারে, যাতে তারা জরুরি প্রয়োজন মেটাতে পারে। একই সঙ্গে এক লাইন আইটেম থেকে অন্যটিতে অর্থ পুনর্বিন্যাসের ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করা দরকার।

এছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ক্রয় বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি ‘হেল্প ডেস্ক’ গঠন করা যেতে পারে। পাশাপাশি, সচিবালয়ে একটি ‘কো-অর্ডিনেশন সেল’ গঠন করা যেতে পারে, যা এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড, সেন্ট্রাল মেডিকেল স্টোরস ডিপো, গণপূর্ত অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর-এর মতো ব্যয়কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করবে। বর্তমানে এই সমন্বয়হীনতার কারণেই বহু প্রকল্প বিলম্বিত হয়।

তবে দীর্ঘমেয়াদে প্রয়োজন স্বাস্থ্য অর্থায়ন ও সেবা কাঠামোর মৌলিক পুনর্বিন্যাস। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে একীভূত করে একটি একক অধিদপ্তরের অধীনে আনা জরুরি। বর্তমানে একই এলাকায় একাধিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে খণ্ডিতভাবে সেবা প্রদান করা হচ্ছে, যা সম্পদের অপচয় বাড়ায়।

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে প্রতিরোধমূলক, প্রমোটিভ ও মৌলিক বহির্বিভাগীয় সেবার ওপর ভিত্তি করে গড়ে তুলতে হবে। এখানে সরকারি খাতকে প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে, তবে দুর্গম এলাকায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) ব্যবহার করা যেতে পারে।

সেকেন্ডারি ও টারশিয়ারি পর্যায়ের সেবার ক্ষেত্রে নন-সিলিং বেসড সেবা প্যাকেজ থেকে ইনস্যুরেন্স-এর মতো সিলিং বেসড সেবা প্যাকেজে যেতে হবে। অর্থাৎ প্রতি পরিবার বছরে কত টাকার স্বাস্থ্যসেবা পাবে, সেটি স্পষ্টভাবে নির্ধারণ ও প্রকাশ করতে হবে। নগদ সহায়তা প্রদানের জন্য ব্যবহৃত ফ্যামিলি বা পরিবার কার্ড চালুর ফলে স্বাস্থ্যসেবায় নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, এখন সেই সুযোগ কাজে লাগানোর সময়।

উদাহরণস্বরূপ, পরিবার কার্ডের মাধ্যমে সেকেন্ডারি চিকিৎসাসেবায় বছরে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা এবং জরুরি চিকিৎসা, জটিল রোগব্যাধি ও টারশিয়ারি পর্যায়ের চিকিৎসায় ৩-৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সেবা সীমা নির্ধারণ করা যেতে পারে।

ফ্যামিলি বা পরিবার কার্ডকে যদি স্বাস্থ্যসেবার সুবিধা প্রদানের প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও ব্যবহার করা যায়, তাহলে এর মাধ্যমে জনগণ, স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং সরকার তিন পক্ষই বহুমাত্রিকভাবে উপকৃত হবে।

প্রথমত, জনগণের জন্য এটি হবে আর্থিক সুরক্ষার একটি কার্যকর মাধ্যম। একটি পরিবার বছরে কত টাকার স্বাস্থ্যসেবা বিনামূল্যে পাবে, তা আগে থেকেই নির্ধারিত থাকলে মানুষ চিকিৎসা ব্যয়ের অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি পাবে। বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য এটি হবে বড় ধরনের স্বস্তি। এতে চিকিৎসার জন্য ঋণ নেওয়া, সম্পদ বিক্রি করা বা দারিদ্র্যের মধ্যে পতিত হওয়ার ঝুঁকি কমবে। একই সঙ্গে মানুষ জানতে পারবে, তারা কী ধরনের সেবা পাওয়ার অধিকারী এবং সেই সেবার আর্থিক মূল্য কত। ফলে জনগণ স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে ক্ষমতায়িত হবে।

দ্বিতীয়ত, এটি স্বাস্থ্যব্যবস্থায় জবাবদিহি ও দক্ষতা বৃদ্ধি করবে। বর্তমানে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রকৃত মূল্য এবং একজন রোগীর পেছনে সরকারের কত ব্যয় হচ্ছে, সে সম্পর্কে জনগণের পরিষ্কার ধারণা নেই। পরিবার কার্ডভিত্তিক স্বাস্থ্য সুবিধা চালু হলে প্রতিটি সেবার মূল্য নির্ধারণ ও রেকর্ড করা সম্ভব হবে। এর ফলে ভুয়া রোগী দেখানো, অপ্রয়োজনীয় সেবা প্রদান কিংবা সম্পদের অপচয় কমানো সহজ হবে। পাশাপাশি রোগীর তথ্য, সেবার ধরন এবং ব্যয়ের তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষিত হওয়ায় পরিকল্পনা ও পর্যবেক্ষণ আরও কার্যকর হবে।

তৃতীয়ত, সরকারের জন্য এটি হবে স্বাস্থ্য খাতে কৌশলগত অর্থায়ন ও সম্পদ ব্যবস্থাপনার একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। কোন এলাকায় কী ধরনের রোগ বেশি, কোথায় কত ব্যয় হচ্ছে, কোন হাসপাতালের ওপর চাপ বেশি এসব তথ্য বাস্তবসম্মতভাবে জানা যাবে। ফলে বাজেট বরাদ্দ, ওষুধ সরবরাহ, জনবল নিয়োগ এবং অবকাঠামো উন্নয়ন আরও তথ্যভিত্তিক ও কার্যকরভাবে করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট সীমাভিত্তিক স্বাস্থ্য সুবিধা চালুর মাধ্যমে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং অপচয় হ্রাস করা যাবে।

এছাড়া পরিবার কার্ডকে স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে যুক্ত করা গেলে ভবিষ্যতে জাতীয় স্বাস্থ্য বীমা বাস্তবায়নের ভিত্তিও তৈরি হবে। অর্থাৎ এটি শুধু একটি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি নয়; বরং একটি সমন্বিত ও জবাবদিহিমূলক স্বাস্থ্য অর্থায়ন ব্যবস্থার দিকে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রযাত্রা হতে পারে।

এ ক্ষেত্রে ভারতের ‘আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা’ কর্মসূচির অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া যেতে পারে। তবে এ ধরনের ব্যবস্থায় সরকারি হাসপাতাল যে আয় করবে, তা স্থানীয় পর্যায়ে সংরক্ষণ ও ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়ার সুযোগ থাকতে হবে, যা বর্তমান পাবলিক ফিন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট বিধিমালায় সমর্থিত নয়।

তাই স্বাস্থ্য খাতে পাবলিক ফিন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট কাঠামোয় প্রয়োজনীয় সংস্কার আনা সম্ভব না হলে, বিদ্যমান অর্থায়ন পদ্ধতির পাশাপাশি প্রতিটি হাসপাতালের জন্য নির্দিষ্ট ব্লক বরাদ্দ এবং পারফরম্যান্সভিত্তিক প্রণোদনা ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে। নির্দিষ্ট রোগের ক্ষেত্রে কৌশলগত ক্রয় পদ্ধতির মাধ্যমে বেসরকারি হাসপাতালকে সম্পৃক্ত করার মতো ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো একটি জাতীয় স্বাস্থ্য তহবিল প্রতিষ্ঠা করা। এই তহবিল সরকারি বাজেট ছাড়াও স্বাস্থ্যকর, মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের ওপর সামান্য লেভি, কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা, উন্নয়ন সহযোগী ও দাতাদের অবদান থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে পারে। এর মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতে একটি টেকসই ও বহুমাত্রিক অর্থায়ন কাঠামো গড়ে উঠবে।

বাংলাদেশ আজ এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, যেখানে স্বাস্থ্য খাতে শুধু বাজেট বৃদ্ধি নয়, বরং বাজেট ব্যবস্থাপনার মৌলিক সংস্কার অপরিহার্য। কারণ, অদক্ষ ব্যবস্থাপনার মধ্যে শুধু বরাদ্দ বাড়ালে অপচয়ও বাড়বে। অন্যদিকে কার্যকর ব্যবস্থাপনা, জবাবদিহি, কৌশলগত ক্রয় এবং স্পষ্ট সুবিধা প্যাকেজ চালু করা গেলে একই সম্পদ দিয়েও অনেক বেশি স্বাস্থ্যফল অর্জন সম্ভব।

স্বাস্থ্য খাতকে তাই ‘বরাদ্দ-কেন্দ্রিক’ চিন্তা থেকে বের হয়ে ‘ফলাফল-কেন্দ্রিক’ চিন্তায় যেতে হবে। জনগণ শুধু বড় বাজেট চায় না; তারা চায় কার্যকর, ন্যায্য ও জবাবদিহিমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থা। সেই পরিবর্তন আনতে হলে এখনই কাঠামোগত সংস্কারের সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

ড. সৈয়দ আবদুল হামিদ : অধ্যাপক, স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইন্সটিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; আহ্বায়ক, অ্যালায়েন্স ফর হেলথ রিফর্মস, বাংলাদেশ

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়