মঙ্গলবার, ২৩শে জুন ২০২৬, ৯ই আষাঢ় ১৪৩৩
ফাইল ছবি
বৈশ্বিক বাণিজ্য জলপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি টেলিফোনর হটলাইন নেটওয়ার্ক স্থাপনে সম্মতি দিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার ও মুখপাত্র মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন।
গতকাল সোমবার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম ইরনাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ঘালিবাফ বলেছেন, “হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছেছি; চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বিতভাবে হরমুজ প্রণালি ব্যবস্থাপনার কাজটি করা হবে এবং এ লক্ষ্যে একটি টেলিফোন হটলাইন এবং একটি সেন্টার স্থাপন করা হবে, যাতে হরমুজে কোনো জাহাজ যদি কোনো প্রকার সমস্যার মুখে পড়ে, তাহলে যেন হটলাইন সেন্টারে যোগাযোগ করতে পারে।”
সুইজারল্যান্ডে আলোচনা সেরে ফেরার পথে বিমানে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গালিবফ বলেন, এখন থেকে প্রণালীটি “ইরানি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হবে” এবং “যুদ্ধের আগের অবস্থায় আর কখনো ফিরবে না।”
সুইজারল্যান্ডে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা সেরে দেশে ফেরার পথে ইরনাকে এই সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ঘালিবাফ। তিনি বলেছেন, “এখন থেকে হরমুজের তত্ত্বাবধায়ক থাকবে ইরান। এই প্রনালী আর কখনও যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরবে না।”
উল্লেখ্য, পারস্য উপসাগর ও আরব সাগরকে সংযুক্ত করা ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। বিশ্বের মোট জ্বালানিপণ্যের ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করে ইরান। ফলে জ্বালানি পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ সংকট ও বিশৃঙ্খলা শুরু হয়, যার জেরে হু হু করে বাড়তে থাকে জ্বালানি তেলের দাম।
তবে গত ১৮ জুন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসলামাবাদ শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পর হরমুজ উন্মুক্ত করে দিয়েছে ইরান। এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলও বাড়ছে।
ইরনাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ঘালিবাফ বলেন, “ ইরান প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে যে হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ করবে এবং যেকোনো সমস্যা বা ভুল বোঝাবুঝি সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে। তবে স্বাভাবিকভাবেই, লেবানন বা অন্য কোথাও যেমন সমস্যা দেখা দিতে পারে, তেমনি হরমুজ প্রণালীতেও সমস্যা দেখা দিতে পারে। আপনারা যেমন দেখেছেন, কোনো কোনো রাতে সংঘর্ষও হয়েছে।”
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টেলিফোন হটলাইন নেটওয়ার্ক স্থাপন সম্পর্কে ঘালিবাফ বলেন, “প্রস্তাবিত এই হটলাইন হরমুজে সর্বোচ্চ স্তরের নিরাপত্তা ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করবে। মার্কিনীদের যদি কোনো বিষয়ে কোনো আপত্তি থাকে, অথবা কোনো জাহাজ বা নৌযানের যদি কোনো পথ বা অন্য কোনো বিষয়ে স্পষ্টীকরণের প্রয়োজন হয়… তারা ফোন করতে পারবে।”