রবিবার, ৫ই জুলাই ২০২৬, ২১শে আষাঢ় ১৪৩৩
ফাইল ছবি
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম পরিচিত ও রোমাঞ্চকর দ্বৈরথগুলোর একটি গ্যাব্রিয়েল মাঘালায়েস বনাম আর্লিং হালান্ড। ক্লাব ফুটবলের সেই লড়াই এবার ফিফা বিশ্বকাপে ফিরছে। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আজ (রোববার) দিবাগত রাতে মুখোমুখি হবে ব্রাজিল-নরওয়ে। যেখানে গ্যাব্রিয়েল-হালান্ডের দ্বৈরথে ম্যাচের ফল নির্ধারিত হতে পারে!
নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় শুরু হবে ম্যাচটি। যেখানে হালান্ড বনাম গ্যাব্রিয়েলের লড়াই বাড়তি আকর্ষণ যোগ করতে পারে। এমনকি সেই দ্বৈরথে বিজয়ী ব্যক্তিই হাসতে পারেন শেষ হাসি। এর আগেও ম্যানচেস্টার সিটির স্ট্রাইকার হালান্ড ও আর্সেনালের ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েল ক্লাবের জার্সিতে শিরোপার লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
ইংল্যান্ডের সাবেক স্ট্রাইকার ক্রিস্টোফার সাটন বিবিসিকে বলেন, ‘লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপে, হ্যারি কেইন ও হালান্ডের মধ্যে গোল্ডেন বুটের লড়াই থাকলেও, বড় কোনো ব্যক্তিগত দ্বৈরথ দেখা যায়নি। এবার আমরা সেটাই দেখতে যাচ্ছি। যা এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত দ্বৈরথ (হালান্ড-গ্যাব্রিয়েল)। ভুল করবেন না, ম্যাচের ফল নির্ধারণে এর বিশাল প্রভাব থাকবে। এই দ্বৈরথকে বিশেষ করে তুলেছে তাদের মধ্যে বিদ্যমান তিক্ত সম্পর্ক।’
‘বড় খেলোয়াড়দের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান অবশ্যই থাকে, কিন্তু এখন পর্যন্ত যা দেখেছি, তাতে মনে হয় তারা একে অপরকে খুব একটা পছন্দ করেন না’, আরও যোগ করেন সাটন। ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর শুরু হয় হালান্ডের সঙ্গে গ্যাব্রিয়েলের মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বে জেতার লড়াই। সিটি-আর্সেনালের ২-২ সমতায় শেষ হওয়া ম্যাচে গোলের পর হতাশায় জার্সি দিয়ে মুখ ঢেকে ফেলা ব্রাজিল ডিফেন্ডারের মাথায় বল ছুড়ে মারেন হালান্ড। পরবর্তীতে নরওয়েজিয়ান তারকাকে একইভাবে উসকানি দিয়ে শোধ তুলেছেন গ্যাব্রিয়েলও।
এপ্রিলে ম্যানচেস্টার সিটির ২-১ গোলের জয়ে হালান্ডকে মাথা দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করেও লাল কার্ড এড়িয়ে যান গ্যাব্রিয়েল। ম্যাচ জয়ের পর হালান্ড ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে ‘গুড ফিলিং’ গান গেয়ে উদযাপন করেন। পরে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আর্সেনাল যখন ম্যানচেস্টার সিটিকে ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত করে, তখন প্রতিশোধ নেন গ্যাব্রিয়েল। গোল করার পর তিনি হালান্ডের মুখের সামনে গিয়ে চিৎকার করে উদযাপন করেন। মে মাসে ২৪ বছর পর আর্সেনাল ইংলিশ শীর্ষ লিগের শিরোপা জেতার পর ট্রফি হাতে সামাজিক মাধ্যমে ছবি দেন গ্যাব্রিয়েল, ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজছিল হালান্ডের গাওয়া সেই ‘গুড ফিলিং’ গান।
ব্রাজিল-নরওয়ের বিশ্বকাপ ম্যাচে হালান্ড-গ্যাব্রিয়েলের দ্বৈরথ দেখার রোমাঞ্চে ভুগছেন সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক অ্যালান শিয়েরার, ‘এটি দারুণ এক লড়াই হবে, কারণ তাদের মধ্যে স্পষ্টই কিছুটা উত্তেজনা রয়েছে। তারা একে অপরকে পছন্দ করে না, তাতে সমস্যা নেই। প্রতিপক্ষকে পছন্দ করতেই হবে এমন নয়। এর আগেও তাদের সংঘর্ষ দেখেছি, তাই এই ম্যাচটি দেখার অপেক্ষায় আছি।’
ক্রিস সাটনের মতে– ‘হালান্ড আর গ্যাব্রিয়েলের দ্বৈরথে যে এগিয়ে থাকবে, তার দল শেষ আটে ওঠার সম্ভাবনাও অনেক বেড়ে যাবে। নরওয়ে অবশ্যই জিততে পারে। তবে ব্রাজিলের ডাগআউটে আছেন কার্লো আনচেলত্তি। তিনি এমন একজন কোচ, যিনি জানেন কীভাবে জিততে হয় এবং জয়ের পথ বের করতে হয়। আমার মনে হয় ম্যাচটি খুব কাছাকাছি হবে। তবে আনচেলত্তির কারণেই সবাই ব্রাজিলকে সামান্য এগিয়ে রাখছে। তিনি ভীষণ অভিজ্ঞ ও বাস্তববাদী কোচ।’