মঙ্গলবার, ২৩শে জুন ২০২৬, ৯ই আষাঢ় ১৪৩৩
ফাইল ছবি
জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি বাতিল করেছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা বাদীপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। ঢাকা মেইলকে খবরটি নিশ্চিত করেছেন মামলার বাদী সালমান শাহর মামা ও চলচ্চিত্র পরিচালক আলমগীর কুমকুম।
তিনি বলেন, ‘সালমান শাহর লাশ কবর থেকে তোলার নির্দেশ বাতিল করেছেন মহামান্য আদালত। আমি আজ ঢাকায় এসেছি এবং লাশ তোলার ব্যাপারে আপত্তি জানিয়ে আবেদন করেছিলাম। কারণ তার (সালমান শাহ) দাফন হয়েছে হজরত শাহ জালাল (রহ.)-এর রওজা শরীফে। দুই বার পোস্টমর্টেম হয়েছে। দ্বিতীয়বার বলা হয়েছে ডিকম্পোজড। ধর্মীয় অনুভূতি, সালমানের মা ও ভক্তবৃন্দের আপত্তি বিবেচনা করা হয়েছে। কেননা ভক্তরা ঘোষণা দিয়েছিলেন সালমান শাহর লাশ তোলা হলে তারা আত্মহত্যা করবেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আবেদন করেছিলাম। মাননীয় আদালত সেটি গ্রহণ করেছেন।’
এর আগে গেল ২৪ মে অভিনেতার মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনের লক্ষ্যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে লাশ উত্তোলন, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি এবং ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন আদালত। ২০ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ সালমান শাহর লাশ তোলার আবেদন করেছিলেন।
তিনি বলেছিলেন, হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে প্রখ্যাত চিত্রনায়ক সালমান শাহর লাশ কবর থেকে উত্তোলনপূর্বক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার অনুমতির আবেদন করি। আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন। কিছু কার্যক্রম আছে, তা শেষ করে আমরা লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করব।
মামলার নথি অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকালে সালমান শাহ নিউ ইস্কাটন রোডের বাসায় অসুস্থ অবস্থায় পাওয়া গেলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই সময় রমনা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয় এবং সিলেটের শাহজালাল (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে তাকে দাফন করা হয়।
গেল বছরের ২১ অক্টোবর মধ্যরাতে রাজধানীর রমনা থানায় সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলা করেন তার মামা আলমগীর কুমকুম। এর আগের দিন ২০ অক্টোবর দুপুরে প্রয়াত এই নায়ককে কি আত্মহত্যা করেছিলেন নাকিতাঁকে হত্যা করা হয়েছিল তা জানতে সালমান হত্যা মামলা পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত।
আলমগীর কুমকুম তার মামলায় প্রথম আসামি হিসেবে অভিযুক্ত করেন সালমানের প্রাক্তন স্ত্রী সামিরা হককে। অন্যান্য আসামিরা হলেন ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুসি, খলনায়ক ডন। সালমান শাহকে হত্যা মামলায় তার প্রাক্তন স্ত্রীসহ মোট ১১ জনের নাম রয়েছে।