শনিবার, ৬ই জুন ২০২৬, ২৩শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


জিয়াউর রহমান ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের পুনর্গঠনের মহান স্থপতি: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত:৬ জুন ২০২৬, ১৯:৩৯

ছবি ‍: সংগৃহীত

ছবি ‍: সংগৃহীত

শনিবার রাজধানীর মগবাজারে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ অডিটোরিয়ামে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ আয়োজিত শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান এ কথা বলেন।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেছেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং রাষ্ট্র পুনর্গঠনের এক অবিস্মরণীয় রূপকার।

তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ একজন সাহসী সেনা কর্মকর্তা হিসেবে তিনি (জিয়াউর রহমান) স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সূচনা পর্বে জাতিকে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত দেশের মর্যাদা ও উন্নয়নের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন।

আহমেদ আযম খান বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে জিয়াউর রহমানের নেতৃত্ব ও দূরদর্শিতা যুদ্ধ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তেলিয়াপাড়া সম্মেলনে তার প্রস্তাবেই যুদ্ধের নাম “মুক্তিযুদ্ধ” নির্ধারণ এবং প্রাথমিকভাবে সেক্টরভিত্তিক যুদ্ধ পরিচালনার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, যা মুক্তিযুদ্ধকে সুসংগঠিত করতে বিশেষ অবদান রাখে।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সামরিক শাসন থেকে দেশকে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনেন।

মন্ত্রী বলেন, তিনি (জিয়াউর রহমান) বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনৈতিক কর্মকা-ের সুযোগ সৃষ্টি করেন এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

আহমেদ আযম খান বলেন, জিয়াউর রহমান ছিলেন অত্যন্ত সাদাসিধে, সৎ ও নির্লোভ একজন রাষ্ট্রনায়ক। রাষ্ট্রপতি হয়েও তিনি সাধারণ মানুষের জীবনযাপনকে ধারণ করেছিলেন। তার ব্যক্তিগত জীবন, খাদ্যাভ্যাস ও কর্মপদ্ধতিতে ছিল মিতব্যয়িতা, দেশপ্রেম এবং জনগণের প্রতি গভীর ভালোবাসার প্রতিফলন। তিনি মাঠে কৃষকের সঙ্গে কাজ করেছেন, গ্রাম উন্নয়ন ও উৎপাদন বৃদ্ধিকে জাতীয় অগ্রগতির মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করেছেন।

মন্ত্রী বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও রাষ্ট্রচিন্তা আজও বাংলাদেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র এবং জাতীয় ঐক্যের জন্য প্রাসঙ্গিক। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আত্মনির্ভরশীলতা, উৎপাদনমুখী অর্থনীতি ও জনগণের ক্ষমতায়নের পথে এগিয়ে যেতে শুরু করেছিল।

তিনি আরও জানান, মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে বর্তমান সরকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। মুক্তিযোদ্ধা সংসদের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, মিলনায়তন সংস্কার এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন ২০ তলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি অতীতে বেদখল হওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পত্তি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সভায় বক্তারা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে একটি গণতান্ত্রিক, সমৃদ্ধ ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়