শনিবার, ৬ই জুন ২০২৬, ২৩শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ফাইল ছবি
বিশ্বকাপ ঘনিয়ে আসছে। ফুটবল বিশ্লেষকরা তো বটেই, অর্থনীতিবিদরাও বিভিন্ন দলের সম্ভাবনা-শঙ্কা নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করে চলেছেন। এমনকি প্রাণীদের দিয়েও ভবিষ্যদ্বাণী করানো হচ্ছে, কে বা কারা জিতবে? সম্প্রতি ‘রিতিনিয়া’ নামের এক ব্রাজিলিয়ান হাঙর এসেছে আলোচনায়। এবার মেক্সিকোর গুয়াদালাজারার চিড়িয়াখানায় প্রাণীরা মেতেছে বিশ্বকাপ উন্মাদনায়।
একটি অস্থায়ী ফুটবল মাঠ বানিয়ে দুটি হাতিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ কে জিতবে তা নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করানোর চেষ্টা করা হয় তাদের দিয়ে। দুটি হাতি ধীর পায়ে হলেও শেষ পর্যন্ত একটি দলকে বেছে নিয়েছে। একদিকে ছিল মেক্সিকান পতাকার ওপর রাখা ঘাস, আরেক দিকে সবুজ পাতা রাখা ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার পতাকার ওপর। হাতি দুটি মেক্সিকোর পতাকার ওপর রাখা ঘাস বেছে নেয়। মানে ১১ জুন দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারাবে স্বাগতিকরা।
প্রাণীকে দিয়ে বিশ্বকাপ ম্যাচের ভবিষ্যদ্বাণী করানোর প্রথা চালু হয় ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে। চিড়িয়াখানার তত্ত্বাবধায়ক ইভান রেইনোসো এএফপি-কে বলেছেন, ‘মূল ভাবনা হলো প্রাণীরা বিশ্বকাপে হতে যাওয়া বিভিন্ন ম্যাচ নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করবে।’
হাতির দল বাছাই শেষ হতেই দুই গরিলা চেনচি ও ফাউস্তিনাকে হাজির করা হয়। তাদের সামনে রাখা হয় খেলোয়াড়দের জার্সির আদলে তৈরি দুটি পিনাতাস (এক ধরনের খেলনা)- একটি স্পেনের, আরেকটি উরুগুয়ের। বেশ সময় নিয়ে এক গরিলা উরুগুয়ের জার্সির দিকে হাত বাড়ায়। মানে ২৬ জুনের ম্যাচটি দক্ষিণ আমেরিকান দেশ জিতবে।
এক জুকিপার উত্তেজনায় চেচিয়ে উঠলেন, ‘কে জিতল, তা তো পরিষ্কার হয়ে গেল।’ মুলুক নামে এক পুমা নিশ্চিত করল যে, চেক রিপাবলিকের বিপক্ষে জিতবে দক্ষিণ কোরিয়া। ছয়টি জিরাফ তাদের বাজি ধরেছে কলম্বিয়ার বিপক্ষে ডিআর কঙ্গোকে নিয়ে।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল প্রতিযোগিতার আগে উত্তেজনায় ভাসছে কোটি কোটি সমর্থক। তাদের বিনোদিত করতেই প্রাণীদের দিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করানো, বললেন রেইনসো, ‘এই ধরনের কার্যকলাপ তাদেরকে (প্রাণী) ব্যাপকভাবে সমৃদ্ধ করে, শুধু দর্শকদের জন্য দৃশ্যগতভাবেই নয়, তাদের নিজেদের জন্যও।’